বৃষ্টি শেষে....
এম রাকিব
পর্ব-১
বাহিরে বৃষ্টি। ঘরে বসে হিমেল নিশির কথা ভাবছিলো। নিশির বৃষ্টি খুব ভাল লাগে। আরো বেশি ভাল লাগে বৃষ্টির পরে। যে সময় টা শীতল হাওয়া বইত। চারপাশ কেমন শীতল হয়ে থাকত আর ভেঁজা মাটির ঘ্রাণ কেমন জেনো এক নেশার মত লাগতো নিশির কাছে। নিশিদের বাড়ির পাঁশে কাঁঠালচাঁপা ফুলের গাছ টার নিচে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে খালি পায়ে হেটে বেড়াতো। নগ্ন পায়ে নূপুর পরে হাটত। সে সময়টা তে নিশি ইচ্ছে করে নীল শাড়ি পরতো। চোখে কাজল আর কপালে কালো টিঁপ দিত। দু হাত ভরে নীল চুড়ি। নুড়ির কণ্ঠবন্ধক। চুল ছেড়ে দিয়ে কাপড়টা দু হাতে একটু উচুঁ করে ধরে জমে থাকা পানিতে মূয়ের মত নেচে বেড়াত।
আজও হিমেল ভাবছে নিশি অবশ্যি আসবে কাঁঠালচাঁপা ফুল গাছটার নিচে। হিমেল নিশিকে দেখার জন্য প্রতিক্ষা করে। কখন বৃষ্টি থামবে আর কখন নিশির সাথে দেখা করতে যাবে। বৃষ্টি থামা মাত্র হিমেল চলে গেলো কাঁঠালচাঁপা ফুল গাছটার নিচে। যেয়ে দেখে নিশি আগেই এসে গেছে।
-তুমি এসেছ। এত দেরি করলে যে..
-কই দেরি করলাম সবে মাত্র না বৃষ্টি শেষ হলো।
কিছুটা সময় দারিয়ে থেকে নিশি কে দেখলো। কি অপূর্ব লাগছে। মনে হয় স্বর্গ থেকে কোন এক অপ্সরী এসেছে ধরণীতে। হিমেলও যেনো স্বর্গলাভ করল।
-হিমেল তুমি ওইদিকে দারিয়ে কেনো। এখানে আসো। দেখো পানি কি রকম শীতল হয়ে আছে। পানির মাঝে ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগছে। সারা শরীল কেমন যেনো শীতল হয়ে যাচ্ছে।
-না থাক আমি আসবো না। তুমি থাকো। খেলা করো। আমি দেখি তোমাকে। অপলক দৃষ্টি নিয়ে হিমেল তাকিয়ে থাকে নিশির দিকে। যতই দেখে ততই মুগ্ধ হয় হিমেল।
হিমেলের মনের মাঝে দুষ্টু খেয়াল হয়। ভাবলো নিশির সাথে মজা করা যায় এখন।
তখন সে কাঁঠালচাঁপা ফুল গাছটির ডালা ধরে ঝাঁকি দিল। বৃষ্টির মত ঝরঝরিয়ে পানি পরতে লাগলো নিশির গায়ে। নিশি দৌড়ে এসে হিমেল কে জড়িয়ে ধরে। হিমেল অপ্রস্তুত থাকায় কিছুটা অবাক হয়।
হিমেল খেয়াল করলো নিশি কিছুটা ভিজে আছে। নিশির মুখ খানা আলত করে তুলে ধরে তাকিয়ে আছে অপলক দৃষ্টিতে। শিশিরবিন্দুর মত মুখ জুড়ে থাকা ফোঁটা গুলি দু চোখ ভরে দেখে আর মুগ্ধ হয়।
কি অপরূপ লাগছে।
নিশি চোখ খুলে দেখে হিমেল তাকিয়ে আছে। নিশি লজ্জায় আরো বেশি রাঙা হয়ে উঠে।
-কি দেখছ এমন করে?
-তোমাকে।
-বারে আমাকে কি নতুন করে দেখছ নাকি?
-হ্যাঁ। প্রতিটি মুহুর্তই তুমি আমার কাছে নতুন।
-আচ্ছা ছাড়ো এখন।
-উহু... তুমি ইচ্ছে করে এসেছ। এখন আমার ইচ্ছায় ছাড়বো।
-ও আচ্ছা..! রাখো ধরে দেখি কতক্ষন ধরে রাখতে পারো।
-সারা জীবন ধরে রাখবো এই ভাবে। আরো বেশি শক্ত করে।
-তাই নাকি।
-হ্যাঁ তাই।
-আচ্ছা দেখা যাবে। এখন ছাড়ো। বাড়িতে সবাই আছে। কখন কি হয়ে যায় কে জানে।
-হোক না তাতে কি। জানো আমার মন কি চায়ছে?
-কি...?
-ইচ্ছে করছে তোমাকে এভাবে ধরে রেখে দেখতে থাকি। তোমার কাজল কালো চোখের মাঝে আমি হারিয়ে যাই। তোমার চোখ যত দেখি নিজেকে তার গভীরতার মাঝে হারিয়ে ফেলি। তোমার এই কালো চুল গুলা দেখে মনে হয় কালো মেঘ উড়ে বেড়াচ্ছে।
-হয়েছে হয়েছে এখন ছাড়ো।
-বললাম ত ছাড়বো না। আর কি ইচ্ছে করছে জানো?
-এত্ত এত্ত ইচ্ছে করে কেনো?
-ইচ্ছে করছে তোমার গালের উপর থেকে ওই পানির ফোটা টা আমার ওষ্ঠ দিয়ে তুলে নিতে। ইচ্ছে করছে তোমার ওই গোলাপি ঠোঁটের উপর আমার ওষ্ঠ দিয়ে খেলা করতে।
নিশি লজ্জায় লাল হয়ে কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
হিমেল ওষ্ঠদ্বয় নিশির অধরের কাছেকাছি নিতেই এক ঝাটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো তুমি কি যে বলো না। ধ্যাৎ....আমি গেলাম।
-নিশি শুনো না। যেও না এখন। কথা আছে।
-তোমার সাথে আর কথা নেই। তুমি অনেক দুষ্টু হয়ে গেছো।
-সে তো তোমার জন্যে।
-আমি যাই এখন। সন্ধ্যার পর ছাদে এসো। নিশি যেতে যেতে কথা গুলি বললো।
(চলবে.....)👉 পর্ব -২


No comments:
Post a Comment
no spam