গোঁপালের উকালতি
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ,,
ইউরোপের কোন এক রাজ্যে ছিল এক সওদাগর। নাম তার মজনু মিয়া।
ব্যবসা বাণিজ্য করে দিন কাটতো তার।
তার কোন ছেলে মেয়ে ছিল না। সংসারে ছিল সে আর তার বউ। সেকালে অনেক গাঁও খুঁজে বিয়ে করেছে। এজন্য বউকে প্রাণ উজার করে ভালোবাসতো। খুব সুখেই কাটছিল দিন। কিন্তু সওদাগরের ছিল এক বদগুণ। কথায় কথায় কসম খাওয়া। বিয়ের পর ব্যবসা বাণিজ্যে যাওয়ার কথা ভুলেই গেছে। বসে বসে বেকার খেয়ে জমানো অর্থকড়ি শেষ। একমুঠো দানাও ঘরে নেই। স্থির করলো সওদাগরী করতে বাণিজ্যে বের হবে। পাশের রাজ্যে ব্যবসা বাণিজ্য করে টাকাকড়ি আনবে। আরামে থাকবে। যাবার সময় বউকে বললো, আমি বাণিজ্যে চলে গেলে তুমি বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেয়ো না। এমনকি বাপের বাড়িও। বুঝলে? গেলে কিন্তু তুমি তালাক।
বউয়ের উপর মজনু মিয়ার বিশ্বাস শতভাগ। বিনা হুকুমে বাড়ির বাইরে যায় না কোনদিন।
গতহলো কিছু দিন।
মজনু মিয়া এখনো বাণিজ্য করে ফিরেনি। ইতিমধ্যে তার শ্বশুর আব্বা মারা গেল। বউ কাঁদতে কাঁদতে বাপের বাড়ি চলে গেলো। স্বামীর কথা তার মনে ছিল না।
সকালে মজনু মিয়া বাণিজ্য থেকে বাড়ি চলে এলো। বউ বাড়ি নেই। বিনা হুকুমে বাপের বাড়ি গেছে। তাহলে তো বউ তালাক! অনুতাপ করতে লাগলো। খবর পেয়ে বউ বাড়ি এলে দুরু দুরু করে বাপের বাড়ি তাড়িয়ে দিলো।
তারপর মজনু মিয়া কোর্টে মামলা দাখিল করে বউকে ফিরে পাবার। কিন্তু হাকিমের রায় কসমের উপর বহাল থাকে। কি আর করার? কোথায় যাবে? ভেবে কিছু পায় না। বউয়ের চিন্তায় মজনু মিয়া দিন দিন শুকিয়ে যায়।
একদিন দেখা হলো গোঁপাল ভাড়ের সাথে। গোঁপাল বুদ্ধিতে পাকা। জীবনে কোনদিন কথায় কাজে কারো কাছে ঠকেনি। ছলে বলে কৌশলে জিতবেই।
গোঁপাল ভাড় মজনু মিয়ার সব কথা শুনে বললো, তোমার বউ তালাক হয়নি। এদেশের হাকিমও যেমন উকিলও তেমন। মাথায় বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। তুমি মামলা আপিল করো। আমি উকিল হিসেবে দাঁড়াবো।
তাই করলো মজনু মিয়া।
শহর জুড়ে হুলুস্তুল পড়ে গেলো। গোঁপাল ভাড় যাবে কোর্টে জেরা করতে। কোর্টে লোক আর ধরে না। তিল ধরনের ঠাঁই নেই।
বিচার শুরু হলো। সরকারী উকিল দাঁড়াইলো।
গোপাল জিজ্ঞেস করলো, মজনু মিয়া বাণিজ্যে যাওয়ার আগে বউকে কি বলে ছিল?
সরকারী উকিল বললো, বিনা হুকুমে বাপের বাড়ি গেলেও তালাক।
গোঁপাল বললো, বউ কি বাপের বাড়ি গিয়েছিল?
সরকারী উকিল বলে, হ্যাঁ! গিয়েছিল।
গোঁপাল বললো, মামলার রায় ঠিক হয়নি। মজনু মিয়ার বউ তালাক হয়নি। সে বাড়ি গেলে তালাক হতো।
সরকারী উকিল বললো, সে বাপের বাড়ি গিয়ে ছিল প্রমাণ আছে।
গোঁপাল বললো, সব মিথ্যে। সে বাপের বাড়ি গেছে মৃত্যু সংবাদ শুনে। মৃত ব্যক্তি দুনিয়ার কোন কিছুর মালিক নয়। কোন কিছুর উপর তার অধিকার নেই। কাজেই সে বাড়ি- বাপের বাড়ি নয়। ভাইয়ের বাড়ি। ভাইয়ের বাড়ি যেতে মজনু মিয়া বউকে নিষেধ করেনি। তাই তালাক হয়নি।
হাকিম গোঁপালের উকালতির যুক্তিতে ডিগ্রি দিলেন মজনু মিয়ার বউ তালাক হয়নি। Please- Follow & Share


No comments:
Post a Comment
no spam