gramer eide bhoot-sesutosh story



গ্রামের ঈদে ভূত,,

       - জুয়েল আশরাফ,,
 
আয়ান এবার কিছুতেই গ্রামে ঈদ করবে না। সে কার কাছে শুনেছে গ্রামে বাঁশঝাড়, গাছগাছালি, ঝোপজঙ্গলে ভূত থাকে। সেখানে ভূত-পেত্নীর অভাব নেই। শাকচুন্নি, চোরাচুন্নি, পেঁচাপেঁচি, গেছোভূত, দেও, ঝেঁওপেত্নী, মেছোভূত, বেঘোভূত, নিশি, মামদোভূত, কানাভুলো।
ছোট কাকু চোখ কপালে তুলে বললেন- এ কী রে আয়ান, তুই দেখছি ভূতগোষ্ঠীর নাম সব মুখস্থ রেখেছিস! ভূতসমাজে এই খবর রাষ্ট্র হয়ে গেলে ভূতের সর্দার তোকে পুরস্কার ঘোষণা করবে।
কিছুদিন আগে আয়ানের সামনের একটা দাঁত পোকায় খেয়েছে। পোকায় খাওয়া দাঁত নিয়ে সে লাজুক ভঙিতে হেসে বলল- কাকু, আরও নাম জানতাম, ভুলে গেছি।
কাকু বললেনন- তা তুই ঠিক করেছিস, এবার ঈদে গ্রামে যাবি না?
ভূত থাকলে কী করে যাই?
আসলেই ভূত-ফুতের জায়গায় গিয়ে কাজ নেই।
কিছুক্ষণ ছোট কাকু চিন্তায় পড়লেন। এরপর বললেন- হ্যাঁ রে আয়ান, ভূত কি শুধু ঈদের মধ্যেই গ্রামে আসা-যাওয়া করে? গ্রামের ঈদে ভূত রহস্য কী?
আয়ান বিজ্ঞ লোকের ভঙ্গিতে নাক কান চুলকে নিয়ে বলল, ঈদের সময় শহরের সব শিশু গ্রামে বেড়াতে যায়। তখন ভূতের সুযোগ হয় বেশি শিশুদের ভয় দেখানোর।
একটু থেমে কাকুকে সে জিজ্ঞেস করল- আচ্ছা কাকু, ভয় দেখিয়ে ভূতের লাভ কী?
কাকু বললেন- আমরা খিদে পেলে খাবার খাই। আমার মনে হয়, শিশুদের ভয় দেখাতে না পারলে ভূতগুলো না খেয়ে মারা যাবে। শিশুদের ভয় হলো ভূতের খাবার।
ছোট কাকুর যুক্তি আয়ানের বেশ পছন্দ হলো। সে কেমন ভীত চোখে তাকাল চারপাশে।
কী হয়েছে আয়ান? ভয় পাচ্ছিস?
হুম।
আমার কোলে এসে বোস। না থাক, ওখানেই বসে থাক। তুই ভয় না পেলে ভূতের পেট ভরবে না।
আয়ান সত্যি সত্যিই কাকুর কোলে এসে বসল। তার খুব ভয় লাগছে। জানালার বাইরে রাতের অন্ধকার। চারদিকে সুনসান নীরবতা। জানালা ঘেঁষে একটি নারিকেল গাছ। বাতাস ছাড়াই নারিকেলের পাতাগুলো কেমন কেঁপে কেঁপে উঠছে। দূরের অন্ধকারে সাদা পোশাকে কেউ একজন দাঁড়িয়ে। কিন্তু চোখ ফেরাতে পারছে না। অদ্ভুত এক শক্তি তার দৃষ্টিকে আটকে রেখেছে জানালায়। ভয়ে কাকুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে কাকুর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে, কাকু চোখের পাতা দুটিকে উল্টিয়ে চেহারাকে ভুতুড়ে করে রেখেছেন। আয়ান ফিক করে হেসে দিল।

No comments:

Post a Comment

no spam

 

Copyright © 2016 - | World Books Collect | All Right Reserved| Design by MAS web| Mumbai, India| e-mail:- contact@masexim.in