Shopping somachar short story



Short story shopping somachar bengali


শপিং সমাচার- খুব সকালে ঘুম থেকে জেগে আতর সাহেবের স্ত্রী ডাকতে আরম্ভ করল। আতর সাহেব স্ত্রীর ডাকে বিরক্তি বোধ করে কর্কট ভাষায় বললেন, এত সকালে আমাকে জাগালে কেন? স্ত্রী আনন্দ চিত্তে জবাব দিল, ওগো, শপিংমল বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকায় আতর সাহেব নিশ্চিন্ত ছিলেন এতকাল। এহেন ভয়াবহ সংবাদে তার চোখের পুতুলগুলো চরকির মতো ঘুরতে লাগল। যেন বাঁশ খাওয়ার জন্য দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন। করোনার কথা বলেও স্ত্রীর মাথা থেকে শপিংয়ের চিন্তা বাদ দেওয়া গেল না। করোনার রোগীর থেকে জামা খুলে এনে আতর সাহেবকে পরিয়ে দেবেন- এরকম কথা বলে স্ত্রী তাকেই উল্টো ভয় দেখাল। অগত্যা বাধ্য হয়েই স্ত্রীকে নিয়ে যেতে হবে শপিং করতে। 
কিন্তু আতর সাহেব এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নন। ফন্দি করলেন স্ত্রীকে উচ্চ স্তরের শিক্ষা দেবেন। করোনাকালে স্ত্রীদের উচিত স্বামীদের গরীব-পকেটের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা। সেটা না করে স্ত্রীরা ধানাই-পানাই আরম্ভ করেছে শপিং করবে। এদের যখন করোনার ডরভয় একেবারেই নাই, অন্য উপায়ে ভয়ডর দেখিয়ে যদি শায়েস্তা করা যায়! আতর সাহেব শপিংয়ে যাওয়ার আগে গোপনে ফোনের কাজ সেরে নিলেন। বন্ধুকে ফোন করে প্ল্যান সব বুঝিয়ে দিলেন। ঘটনা এই- স্ত্রীকে নিয়ে শপিং মলে ঢুকবেন। বিক্রিত মাল ফেরত নেওয়া হয় এরকম দোকান থেকে কেনাকাটা করবেন। শপিং শেষে ইফতার করবেন মলের আশেপাশে। এরপর ভরাট সন্ধ্যায় রিকশায় বাসায় যাবেন কোনো এক সুনশান গলির ভেতর দিয়ে। সেই গলিতেই বন্ধু মুখ ঢেকে ছিনতাইকারী সেজে তাদের সবকিছু ছিনিয়ে নেবে। এরপর রিকশা থেকে দ্রুত নেমে ছিনতাইকারীকে ধরার ছল করে বন্ধুর পিছু ছুটবেন। তারপর বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে গিয়ে ক্রয়কৃত মাল ফেরত দিয়ে টাকা ফেরত নেবেন।

আতর সাহেব নিজের বুদ্ধির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নিজের বুদ্ধির বাহার দেখে তিনি মুগ্ধ আর অভিভূত। স্ত্রীকে নিয়ে সুর করে গান গাইতে গাইতে ঢুকলেন শপিংমলে। দুই ঘন্টা ধরে চলল কেনাকাটা। পকেটে যা টাকা এনে ছিলেন অর্ধেক শেষ। আরও দুই ঘন্টা কেনাকাটার পর দেখা গেল ফেরার জন্য রিকশা ভাড়ার টাকাটা শুধু বাকি। সব খরচ হয়ে গেল জলের মতো। অবশ্য খরচ নিয়ে আতর সাহেবের বিন্দুমাত্র আফসোস নেই। সব টাকাই ফেরত আসবে তার পকেটে।
ইফতারের পর একটা রিকশায় দুজন উঠে বসলেন। স্ত্রী শাড়ির ডিজাইন নিয়ে কথা বলে যাচ্ছে। আতর সাহেব মিহি সুরে গান ধরলেন। রিকশাটা টুক করে ঢুকে পড়ল একটা গলির ভেতর। আতর সাহেবের স্ত্রী শাড়িবিষয়ক আলোচনায় মন্ত্রমুগ্ধ। 
-শাড়িটার রঙ সোহানা ভাবির শাড়ির চেয়ে গর্জিয়াস? তাই না গো?
-হ্যাঁ গো। ঠিক বলেছ।
-আমার শাড়িটা কিন্তু উনার চেয়ে বেশি দামে কেনা।
-হ্যাঁ গো সোনা হ্যাঁ। 
-সোহানা ভাবি তো একটা বলদ মার্কা মহিলা। কাপড় কিনতেই জানে না। কথাটা শেষ করতে না করতেই, রাস্তার অন্ধকার থেকে কে যেন দৌড়ে এল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লম্বা এক ছুরি দেখিয়ে সব জিনিসপত্র নিয়ে ঠুস করে পালিয়ে গেল।

আতর আলী সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করে দিলেন মহিলাদের মতো কান্নাকাটি। সঙ্গে সব ইমোশনাল ডায়ালগ- আল্লাহ রে, আমার সব শেষ করল রে! ওগো ঘরে কী বউ নাই? ওরা কেম্নে পারল আমার বউয়ের সব জিনিসপত্র নিয়ে যেতে! আমি এখন কী করি?
আতর সাহেবের স্ত্রী ধমকের সুরে বললেন, তোমার লজ্জা করে না, মেয়েদের মতো চিৎকার করে কাঁদতে? কত বড় বলদ পুরুষ! ছিনতাইকারীকে না ধরে রিকশায় বসে কান্না আরম্ভ করছে। জলদি দৌড়ে যাও, ছিনতাইকারীকে আটকাও।
আতর সাহেব রিকসা থেকে নেমে হাসতে হাসতে ছিনতাইকারীর পিছু ছুটলেন। ছিনতাইকারী দৌঁড়াচ্ছে, তিনিও দোঁড়াচ্ছেন। আতর সাহেব বললেন, বন্ধু আর ভাগিও না। সারাদিন রোজা ছিলাম। এখন আর ভাগতে পারব না। আমার স্ত্রীর রিকসা অনেক পেছনে ফেলে এসেছি। থামো এবার।

কে শোনে কার কথা। ছিনতাইকারী ছুটছে তো ছুটছেই। ছুটতে ছুটতে অন্ধকারে মিশে গেল। আতর সাহেব বন্ধুকে খুঁজে না পেয়ে বিচলিত হয়ে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করলেন। বন্ধুকে ফোন দিলেন। প্রথমবার রিং হতেই ওপাশে বন্ধুর করুণ গলা- বন্ধু, দুঃখিত। বউ আমাকে জোর করে ধরে এনেছে শপিংয়ে। তোমাকে যে ফোন করে ব্যাপারটা জানাব সেই উপায়ও ছিল না। বউ মোবাইল ফোন আটকে রেখেছে, কারোর সঙ্গেই কথা বলতে দিচ্ছে না। আমার ঘাড় ধরে শপিং করতে নিয়ে এসেছে। মার্কেটে আছি। বউ বকছে। পরে কথা হবে।

লাইন কেটে যাওয়ার পর ভাবতে থাকেন, তাহলে কি ওই লোকটা সত্যি সত্যিই ছিনতাইকারী ছিল! অন্ধকার রাস্তায় আতর সাহেব জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়ে গেলেন।



No comments:

Post a Comment

no spam

 

Copyright © 2016 - | World Books Collect | All Right Reserved| Design by MAS web| Mumbai, India| e-mail:- contact@masexim.in