Pakhal bhaier nari debos bhaabna short story
পাখাল ভাইয়ের নারী দিবস ভাবনা...
- জুয়েল আশরাফ
পাখাল ভাইয়ের নারী দিবস ভাবনা-
পাখাল ভাই একটা দৈনিক পত্রিকা অফিসে চাকরিতে নতুন জয়েন করেছেন। কাজের চেয়ে অকাজেই তার মনযোগ বেশি। বেশ কিছুদিন ব্যাপারটা সম্পাদক সাহেব লক্ষ্য করে আসছেন। একদিন অফিসের রুমে পাখাল ভাইকে ডেকে নারী দিবসের উপরে একটা আর্টিকেল লিখতে বলেন। সময় দিলেন দুই ঘন্টা। পাখাল ভাই নিজের টেবিলে ফিরে এসে বসে বসে ভাবতে থাকেন। জীবনে কোনদিন আর্টিকেল লিখেননি। তা-ও নারী দিবসের! কোন একটা বিষয়ের উপর লিখতে গেলে প্রথমেই সেই বিষয়ের জ্ঞান থাকা চাই।
নারী দিবসের ইতিহাস পাখাল ভাইয়ের পড়াশুনাতে নেই। এসব দিবস টিবসকে সারাজীবনই তিনি এড়িয়ে গেছেন। তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়- পুরুষ দিবস কবে? এবং পুরুষ দিবসের ইতিহাস কি? আদৌ পুরুষ দিবস বলতে কোন দিবস আছে কী নেই, পাখাল ভাই এসবের কোন জবাবই দিতে পারবেন না। সম্পাদক সাহেব তাকে অনেক বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবে একমাত্র জরিনা। জরিনা হলো পাখাল ভাইয়ের নবাগতা প্রেমিকা। মাস দুয়েক হলো প্রেমের স্টার্টিং। দিবস সমূহের উপর জরিনার জ্ঞান অত্যাধিক। কত সালের কোন মাসে জরিনা প্রথম প্রেমিক হাবুকে মেরে হাত ভেঙ্গে দিল, দ্বিতীয় প্রেমিক গিট্রুকে থাপ্পড় মেরে কান বয়রা করল, তৃতীয় প্রেমিক ডাবলুকে কত তারিখে দৌড়ানি... সব তারিখ জরিনার মুখস্থ আছে। তাই দিবস সমূহের জ্ঞানে জরিনার কোন তুলনা নাই। জরিনার উপর নিঃসন্দেহে ভরসা করা যায়। সে যে পত্রিকা অফিসে কাজে ঢুকেছে এই কাজটাও পাওয়া গেছে জরিনার সুপারিশে। সম্পাদক সাহেব হলেন জরিনার আপন মামা। পাখাল ভাই জরিনাকে ফোন ঢোকালেন।
-হ্যালো জরিনা, আমি পাখাল।
-কি কইবা কও।
-কি করছো?
-পেয়ারা খাইবার লাগচি।
-সাবধানে খেও, তোমার সুন্দর দাঁতের ক্ষতি না হয়।
-কামের কথা কও। তোমারে না কইচি আমার সাথে ঢং কম করতে? ফোন দিছো কিল্লাই?
-না, এম্নিই ফোন দিলাম। খবর নিয়ে জানলাম। তুমি কি করছো।
-ব্যাস, খবর জানা হইছে? অখ্খন রাখো।
-জরিনা!
-আবার কি?
-একটা কথা বলার ছিল।
-কইয়া ফালাউ।
-নারী দিবস সম্পর্কে তুমি কিছু জানো?
-দিবস লইয়া লাফালাফি ফালাফালি করবার লাগচো কিল্লাই? কাম করবার গেছো, মন দিয়া অফিসে কাম করো।
-এটাও একটা কাজ। বড় সাহেব বলেছেন নারী দিবসের উপর আর্টিকেল লিখতে। কী লিখব ভেবে পাচ্ছি না। আমি তো কোনদিন আর্টিকেল লিখিনি।
-না বুঝলে আর কী করবা? যা হোক, শুনো, আমি একটা ভাল বুদ্ধি দিই, আমি তো একজন নারী, আমার উপর দু চার লাইন লিখে মামাকে দিয়ে দাও।
জরিনা লাইন কেটে দিল। পাখাল ভাই খুশিতে গদগদ হয়ে কলম কাগজ টেনে নিয়ে জরিনার উপর একটা আর্টিকেল লিখলেন...
সম্পাদক সাহেব সেই লেখা পড়েই অজ্ঞান।
Jewel Ashraf more short stories- 👉 Aabasa-Choitrer dupure-Guljer mamer bosonto belash-Jamai bedai-Nargis kahon-Gadami - surch catagory for more.


No comments:
Post a Comment
no spam