smart phonee pepda-rammo story-bengali



স্মাট ফোনে পিঁপড়া,,

অনিক মাযহার,,


















পাশের বাসার দাদী, বয়স প্রায় সত্তরের  কাছাকাছি। এমনিতেই সে খুব স্বাভাবিক এবং শান্ত স্বভাবের। সারাদিন ব্যস্ত থাকে নিজের কাজ নিয়েই। কখনো কারো পরে তেমন একটা অভিযোগ বা অনুযোগ করে না। এ সব কারনেই সবার কাছে সে এক জন প্রিয় পাত্র।
কিন্তু সেদিন,  হঠাৎ শোনা গেলো তার তেজী গলা। যা হয়তো কেউ কখনো আগে শোনেনি। যা-হোক এমন আওয়াজ পেয়ে সবাই ছুটে গেলো তার কাছে। ঘরের ভিতর প্রবেশ করতেই দেখা গেলো, তার সদ্য কেনা সাধের স্মাট ফোনটি মাটিতে চূর্ণ-বির্চূণ অবস্থায় পড়ে আছে। যেটি নিয়ে প্রায়শ সময় সে ব্যস্ত থাকতো। কাউকে কিছু বলছেও না, একাকী শুধু অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে চলেছ।গালাগালির ফাঁক গলে বারবার ভেসে আসছে পিঁপড়ার নাম। মিলিয়েও পারছি না তার ফোন ভাঙার সাথে পিঁপড়ার সমর্পক কোথায়?পিঁপড়া একটি অতীব ক্ষুদ্র প্রাণী, কিভাবে তার ফোন ভাঙবে?
এভাবেই চলে গেলো অনেক সময়। সকলের শান্তনায় সে একটু শান্ত হলো।তবুও বারবার দোষ দিয়েই চলেছে পিঁপড়ার। কিন্তু কারো মাথায়ই খেলছে না পিঁপড়ার এতো দোষ কেন?এই কৌতুহল থেকে সকলেই প্রশ্ন করার সাথে সাথে,সে কান্না জড়া চোখে বলে উঠলো। ছয় পা ওয়ালা পিঁপড়াই নাকি তার ফোনের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছিলো। নাড়া-ঝাড়া দিলেও  যাচ্ছিলো না। সে যতো যায় করে পিঁপড়া ফোনের এ পাশ থেকে ও পাশ দৌড়েই যায়। শেষমেশ সে বিরক্তিতে ফোন ধরে আছাড় মেরেছে।যার ফল স্বরুপ তার এই ভঙ্গুর দশা।সাধের ফোন ভাঙাতে তার কি আর কান্না থামে?কাঁদছে তো কেঁদেই চলেছে,সাথে সাথে উদ্ধার হচ্ছে পিঁপড়ার চোদ্দগুষ্টি।
এতো ভীড় দেখে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো সায়েম।তারও ঠিক দাদীর মতই একটি স্মাট ফোন আছে। এ কারনে তাদের মধ্যে, মাঝে-মাঝে চলতো ফোন বিষয়ক আলাপ-আলোচনা। দাদীর এমন দশা দেখে সে হঠাৎ হাসতে হাসতে বলে উঠলো।'পিঁপড়াটা আসল ছিলো না। ওটা এক প্রকার অ্যাপ। যার দ্বারা পিঁপড়ার দৌড়ানি দেখা যায়। দাদীর নিছক বিনোদনের জন্যই আমি ওটা দিয়েছি। কিন্তু আমি কী জানি, দাদী ওটা আসল ভেবেই ফোনটা ভেঙে ফেলবে?
এ কথা শোনার সাথে সাথেই সকলের মুখে লেগে গেলো হাসির প্রলেপ। দাদীও মৃদু হাসছে আর বলতে লাগছে 'হায় আমি কী বোকা'!

No comments:

Post a Comment

no spam

 

Copyright © 2016 - | World Books Collect | All Right Reserved| Design by MAS web| Mumbai, India| e-mail:- contact@masexim.in