অনলাইন শাস্তি-রম্য গল্প


 অনলাইন শাস্তি

জুয়েল আশরাফ 

আখাল অনলাইন ক্লাশে পড়া নিয়ে নিত্য নতুন ঝামেলা খাড়া করে। বিষয়টি নিয়ে স্যারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার ফোনালাপ করেছে বড় ভাই পাখাল। স্যার বললেন, তুমি যতই অনুরোধ করো আখালকে পড়াতে পারব না। তোমার ছোটভাই ত্যাঁদড়ের একশেষ। সে কত্ত বড় সেয়ানা তুমি চিন্তা করতে পারবে না!
     পাখাল চিন্তা করতে গিয়ে দেখে স্যারের বাজখাঁই গলা ফোনের স্পিকার ভেঙ্গে গুঁড়ো হতে চলেছে। আখালকে হাতের কাছে পেলে কাপড় থেকে পানি ঝরানোর মতো চিপড়াতেন। কিন্তু আখালের ক্লাশ করানোটা খুবই দরকার। না হলে পড়াশোনা সব অমঙ্গল গ্রহে উঠে যাবে। বাবা বলে দিয়েছেন, ছোটোটার পড়াশোনার কিছু একাল-সেকাল হয়, তা হলে বড় বলদের সঙ্গে ছোটো বলদকেও বাড়িছাড়া করবেন। এজন্যই আখালকে নিয়ে পাখালের এত টেনশন। কিন্তু স্যার তো মানতেই চাইছেন না।
     পাখাল বিনয়ে গলে গিয়ে বলল, স্যার, এখন তো অনলাইন ক্লাশ। ইন্টারনেটের তারের ভেতর দিয়ে ছাত্রকে শাস্তির ব্যবস্থা নেই। আপনার যখনই আখালকে শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে আমাকে বলবেন, আখালের নাকমুখ ফাটিয়ে দেব। অনলাইন ক্লাশের সঙ্গে অনলাইন শাস্তি।
     স্যার ভেবে দেখলেন এটা একটা ভালো ব্যবস্থা। তিনি রাজি হলেন। কিন্তু শর্ত থাকল আখালকে যতক্ষণ পড়াবেন পাখালকে সঙ্গে থাকতে হবে। স্যার প্রতিদিন নিয়ম মতো তার ল্যাপটপ নিয়ে পড়ানো শুরু করলেন। ঘটনাক্রমে একদিন পড়ানোর সময় জরিনার ফোন আসে। কথা বলতে বলতে পাখাল উঠে পাশের ঘরে চলে গেল। প্রেমের ফোনালাপ। কতক্ষণ কেটেছে খেয়াল নেই। কথা শেষ হলে এসে দেখে আখাল বসে কাঁদছে। কারণ, জানতে চাইল। আখাল বলল, আমি বারবার পানি খেতে উঠেছিলাম। পানি বেশি খাওয়ার কারণে বাথরুমে গিয়েছি অনেকবার। স্যার রাগ হয়ে আমাকে থাপ্পড় মেরেছেন। 
     পাখাল ট্যাবলেটের দিকে তাকিয়ে দেখে স্যারের হোয়াটস্অ্যাপ অফলাইনে আছে। ঘটনা বুঝলেন, অনলাইন ক্লাসে ছাত্রকে অভ্যাসগতভাবে থাপ্পড় মারতে গিয়ে স্যারের ল্যাপটপ ভেঙ্গে চুরমার!

No comments:

Post a Comment

no spam

 

Copyright © 2016 - | World Books Collect | All Right Reserved| Design by MAS web| Mumbai, India| e-mail:- contact@masexim.in